সুনামগঞ্জ , শনিবার, ০২ মে ২০২৬ , ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অপরিকল্পিত বাঁধে হাওরে সর্বনাশ জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত লক্ষাধিক হেক্টর জমির ফসল শনিবার সিলেট আসছেন প্রধানমন্ত্রী শান্তিগঞ্জে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সিসি ব্লক চুরির অভিযোগ উন্নয়ন প্রকল্পে বদলাচ্ছে ৫ বিদ্যালয়ের অবয়ব দিরাইয়ে ৬ দোকান পুড়ে ছাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন এমপি কামরুজ্জামান কামরুল আজ মহান মে দিবস তাহিরপুরে ভাঙারখাল নদীর উপর টোল-ফ্রি বাঁশের সেতু নির্মাণ, স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে ৬৪৭৬ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল ডিসি সম্মেলন শুরু ৩ মে, থাকছে ৪৯৮ প্রস্তাব সুনামগঞ্জসহ ৫ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস উদযাপিত জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেল ছায়ার হাওর কাটা ধানে গজাচ্ছে চারা জলাবদ্ধতায় ডুবছে হাওরের ধান, অসহায় কৃষক হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর পরিস্থিতি বিবেচনায় ধাপে ধাপে ব্যারাকে ফিরবে সেনাবাহিনী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিরাইয়ে পৃথক দুই সংঘর্ষে আহত ৪০ হাওর বাঁচাতে আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাব সংসদে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে তোলপাড়

হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ : কাজের গতি ও সময়মতো বিল - দুইই জরুরি

  • আপলোড সময় : ০৬-০৩-২০২৬ ১১:৩১:১৫ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৬-০৩-২০২৬ ১১:৩১:১৫ অপরাহ্ন
হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ : কাজের গতি ও সময়মতো বিল - দুইই জরুরি
হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা অনেকটাই নির্ভর করে একটি মৌসুমের বোরো ফসলের ওপর। সেই ফসল রক্ষার প্রধান ভরসা হচ্ছে ফসলরক্ষা বাঁধ। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের আগেই এসব বাঁধের নির্মাণ ও মেরামতের কাজ শেষ করা না গেলে অকাল বন্যা কিংবা পাহাড়ি ঢলে মুহূর্তেই হাওরের কৃষকের সারা বছরের শ্রম পানিতে ভেসে যেতে পারে। তাই বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণকে শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে নয়, বরং কৃষকের জীবনরক্ষার অন্যতম অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সম্প্রি শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। তিনি সরেজমিনে বাঁধের কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) ও কর্মকর্তাদের নীতিমালা অনুযায়ী কাজ স¤পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। বাঁধের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে মাটির সঠিক কমপেকশন, নির্ধারিত ঢাল বজায় রাখা, দুরমুজকরণ এবং দ্রুত ঘাস লাগানোর নির্দেশনা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী উদ্যোগ। তবে পরিদর্শনকালে পিআইসি সংশ্লিষ্টদের যে আর্থিক সংকটের বিষয়টি সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে হলেও প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় না হওয়ায় অনেকেই ধারদেনা করে শ্রমিকের মজুরি দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পাওনাদারদের চাপ ও আর্থিক অনিশ্চয়তা নির্মাণকাজের শেষ পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে বাঁধের মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি যেমন রয়েছে, তেমনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়। এ বাস্তবতায় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে পিআইসিদের বিল প্রদানের আশ্বাস স্বস্তিদায়ক। তবে কেবল আশ্বাসে নয়, বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই এ সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। কারণ হাওর অঞ্চলে সময়ই এখানে সবচেয়ে বড় বিষয়। বিলম্ব হলে তার প্রভাব সরাসরি পড়ে কৃষকের ভাগ্যের ওপর। হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ যাতে সঠিক সময়ে এবং মানসম্মতভাবে স¤পন্ন হয়, সে জন্য প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় কমিটিগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বরাদ্দ ছাড়ের ক্ষেত্রে দাপ্তরিক জটিলতা কমিয়ে দ্রুত অর্থ ছাড় নিশ্চিত করা জরুরি। হাওর বাঁচলে কৃষক বাঁচবে, আর কৃষক বাঁচলে টিকে থাকবে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা। তাই ফসলরক্ষা বাঁধের কাজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সময়মতো অর্থ ছাড় ও কঠোর তদারকির মাধ্যমে এর সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স